অফিসার:-কর্নেল গুলজার আহমেদ
পদবি:- কর্নেল পদাতিক রেজিমেন্ট, র্যাব ইন্টেলিজেন্স অফিসার,সেক্টর কমান্ডার বি.ডি.আর।
দেশপ্রেম ও মহানবী বাণী:- ‘‘ভূখন্ড হিসেবে তুমি কতই না উত্তম, আমার কাছে তুমি কতই না প্রিয়। যদি আমার স্বজাতি আমাকে বের করে না দিতো তবে কিছুতেই আমি অন্যত্র বসবাস করতাম না।’’ (জামে তিরমিযী, হাদীস : ৩৯২৬)
বাংলাদেশের একজন ভয়ঙ্কর ও সৎ আর্মি অফিসার হলেন কর্নেল গুলজার আহমেদ। শহীদ গুলজার উদ্দিন আহমেদ ১৯৬৪ সালের ২১শে মার্চ ব্রাক্ষ্মণ-বাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় জন্মগ্রহন করেন।
কৃতীত্ত পৃর্ণ শিক্ষা জীবন শেষে, ১৯৮৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন। কর্ণেল গুলজার উদ্দিন আহমেদকে তার কর্ম জীবনে সেনাবাহিনী, বিডিআর, ও RAB এর বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি কম্বোডিয়ার অন্তবর্তীকালিণ জাতিসংঘ সহায়তা মিশনে সামরিক পর্যবেক্ষক ও ক্রালিয়ন এ জাতিসংঘ সহায়তা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি খুবই সাদাসিধে জীবন যাপন করতেন। ২০০৫ এ যখন র্যাব এর ইন্টেলিজেন্ট উইং গঠিত হয় তাকে ইন্টেলিজেন্ট উইং এর চিফ এর দায়িত্ব দেওয়া হয় ।২০০৫ ছিল বাংলার সেই কলঙ্কময় অধ্যায়, যখন জঙ্গিবাদের দৌড়ত্তে জন জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।বাংলাদেশ যখন হুমকির সম্মুখীন ঠিক সেই মূহুর্তেই যেন জঙ্গিদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে আবির্ভাব হয় কর্ণেল গুলজার এর ২০০৫ সালের সেই ১৭ ই আগস্ট সারাদেশে প্রকাশ্যে জঙ্গিদের বোমা হামলার ঘটনা ঘটলে তার নেতৃত্বে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পাল্টা গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়। তার হাতেই ধরা পরে শায়েখ আব্দুল রহমান, সিদ্দিকুর ইসলাম ( বাংলা ভাই) আতাউর রহমান সানি, হাফেজ মাহমুদ , সালাউদ্দিন সহ প্রায় শীর্ষ সব জঙ্গিনেতা। তার পরিচালিত অপারেশন # সূর্যদিঘল_বাড়ি আজও সারা বিশ্বের ফোর্স গুলোর কাছে এক অনুকরনীয় অপারেশন ।২০০৭ এর শুরুর দিকে তাকে RAB হতে বিডিআর বদলি করা হয়।। বিডিআর এ সফল ভাবে দায়িত্ব পালনের পর তাকে আবারও র্যাব এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে নিযুক্ত করা হয়।।
২০০৮ এর নভেম্বর এর দিকে তার নেতৃত্বে প্রচুর পরিমাণে জিএমবির গ্রেনেড, বিষ্ফোরক নাইট্রিক এসিড ও অন্যান অস্ত্রসহ জঙ্গিরা ধরা পরে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার বীরত্বপুর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি জনগনের মাঝে জাতীয় বীর হিসেবে সুপরিচিত হন।। জঙ্গিবাদ দমনে তার যোগ্যতা প্রমানের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০০৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী তাকে র্যাব থেকে পুনরায় বিডিআর এ বদলি করা হয় আর এটাই তার জন্যে কাল হয়ে উঠে ১২ ই ফেব্রুয়ারী তিনি সিলেটর বিডিআর সেক্টর কমান্ডার হিসেবে যোগ দেন। তিনি সিলেটে বিডিআর এ যোগ দিলে ও তার পরিবার থেকে যায় ঢাকা সেনানিবাস কোয়াটারে।
ফেব্রুয়ারী ১৫-১৬ তারিখে তার স্ত্রী ফাতেমা তাকে বললেন শুনেছি সিলেটে জিএমবির সক্রিয়তা বেশি, আর বিডিআর তোমার নতুন পোস্টিং এর কারণে সেখানে তোমাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে হতে পারে, যদি কিছু হয়। কর্ণেল গুলজার শুধু বললেন আমি শাহাদতকে গ্রহণ করবো। রাইফেল সপ্তাহে যোগ দিতে তিনি সোমবার রাতেই ঢাকা পৌঁছান তার স্ত্রীর সাথে এটাই ছিল তার শেষ কথা....
২০০৯ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারী কতিপয় বিডিআর সদস্যদের হাতে লাশ হতে হয় তাকে। সেই লাশের নির্যাতনের চিহ্ন এতটাই ভয়াবহ ছিলো যে এতো লাশের ভিড়ে কর্ণেল গুলজার এর লাশটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু তা যখন পাওয়া যায় তখন তা ছিলো কল্পনাতিক ভাবে বিকৃত অবস্থায়। অনেক খুজা খুজির পর মার্চের প্রথম সপ্তাহে পরিচয় বিহীন ৫ টি লাশ মিলে। সেই সকল লাশে এতটাই নিষ্ঠুরতার চিহ্ন যে ডি এন এ পরীক্ষা ব্যাতিত লাশের পরিচয় বেরকরা অসম্ভব ছিলো। অন্য একটি পরিবার ভুল বসত কর্ণেল গুলজার এর লাশ চিহ্নিত করলে লাশটি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আনা হয়। আর সে কারনেই এখনও যানা সম্ভব হয়নি তার লাশটি নর্দমা থেকে নাকি গঠনার পর দেওয়া গণকবর থেকে উদ্ধার হয়েছিল।। শেষমেষ কোনো উপায় না পেয়ে কর্ণেল গুলজার এর কন্যা জাহিন তাসনিয়া কে জেনেটিক পরিক্ষার জন্য ডাকা হলে তার লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আর তার পচন ধরা ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখে পরিবার পরিজনরা আতঙ্কে আতকিয়ে উঠে। তখন পরিবারের এক সদস্য বলেন তার চেহারা চেনা খুব কষ্ট সাধ্য ছিল আমাদের জন্য। কেননা লাশের চোখ জোড়া উপরে ফেলা হয়েছিল। কর্ণেল গুলজার এর মেরুদন্ড ভেঙে ফেলা হয়েছিল। আর বাকি লাশে ছিল ভয়াবহ নির্যাতনের চিহ্ন। এ ভাবে মর্মান্তিক ভাবে শহীদ হন বাংলার ইতিহাসের অন্যতম বীর সেনানী এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন যোগ্য সদস্য (কর্ণেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ।। অথচ আজ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনেকেই তার ব্যপারে পিলখানায় নিহত ৫৭ জন সৎ ও সাহসী অফিসারদের সম্পর্কে।